মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস

‘প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান’ (১৯৫৬) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস । উপন্যাসটি অসমাপ্ত। উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন একজন মানুষের ওপর পারিবারিক প্রভাব। উপন্যাসে প্রাণেশ্বরের বাবার মৃত্যুতে প্রাণেশ্বর ডাক্তার না হয়ে ফার্মেসির কম্পাউন্ডার হয়, আবার চপলের টি.বি হওয়ার কারণে তাকে আশ্রয়হীন হতে হয়। উপন্যাসের শুরু হয়েছে প্রাণেশ্বরের জন্ম হওয়ার মধ্য দিয়ে ।

বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত শ্রীরামনাথ দেবশর্মা এবং সরলার একমাত্র পুত্র প্রাণেশ্বর। প্রাণেশ্বরের জন্ম হয় হাসপাতালে। সরমার পাশের বিছানায় ছিল মণিমালা। মণিমালার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়- ইন্দ্রানী। সরলার জ্ঞান ফেরার পর দেখে প্রাণেশ্বর নড়াচড়া করে না, তখন সরলা মনিমালাকে ডাকে। মনিমালা ডাক্তার ডেকে প্রাণেশ্বরের প্রাণ ফিরিয়ে আনে। সেই থেকে দুই পরিবারের যোগসুত্র গড়ে ওঠে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস

 

বড় হয়ে প্রাণেশ্বর মনিমালাকে মনি-মা বলে ডাকে। মনিমালার কাছেও প্রাণেশ্বর নিজের ছেলে হয়ে ওঠে। এমনকি মনিমালার নিজের ভাই চপলের চেয়েও মনিমালা আর ইন্দ্রানীর কাছে প্রাণেশ্বরের দরদ বেশি। প্রাণেশ্বর ডাক্তারি পড়ে। বাবার মৃত্যুতে তার পড়া বন্ধ হয়ে যায়। সে পাড়ার হাতুড়ে ডাক্তার শ্রীরামদাসের সঙ্গে শেয়ারে ওষুধের দোকান দেয়। অন্যদিকে চপল বখাটে হয়ে যায়। সে পরীক্ষায় ফেল করে।

মণিমালা আর স্বামী সমর চপলের পড়া বন্ধ করে দেয়। এরপর দেখা যায় চপল বেশি বখাটে হয়ে উঠেছে। সে বাক্স ভেঙে টাকাও চুরি করে। অবশেষে জানা যায় চপলের টি.বি. হয়েছে, আশ্রয় হারাবার ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজে নিজে চিকিৎসা করছে। ছোঁয়াচে রোগ টি.বি.র কারণে সমর তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মণিমালা লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে। ইন্দ্রাণী নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়

“ আমি সিনেমায় ঢুকবো। যদ্দিন দরকার মামাকে স্যানিটোরিয়ামে রেখে আসল চিকিৎসা চালিয়ে যাবো।” (১০খ, পৃ-৫০৭)

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান উপন্যাস

 

ইন্দ্রাণীর সঙ্গে নাচ শিখত মৃদুলা। সে অনেক মোটা, স্বাস্থ্য ঠিক করার জন্য সে নাচ শিখতো । দেখা যায়, ইন্দ্রাণীকে নয়, মৃদুলাকে সিনেমায় নিয়েছে। এরপর চপল আর মৃদুলা বিয়ে করে। মৃদুলা বলে

“জেনেশুনেই নিলাম। আর কেউ তো নেবে না, অগত্যা আমাকেই দায় নিতে হবে। মরতে দিলে চলবে না তো, যেভাবে হোক ওকে বাঁচাতে হবে।” (১০খ, পৃ-৫১৫)

প্রাণেশ্বর দিন দিন বিশ্রী রকম বিগড়ে যায়। কাজ কর্মের ঠিক নেই। কখনো বাইরে খায়, মা বোনদের কষ্ট দেয়। এরকম জায়গায় উপন্যাস অসম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন সংসার কারো জন্য থেমে থাকে না। একজন না থাকলে অন্যজন সে দায় কাঁধে নেয়।

Leave a Comment

Are you human? Please solve:Captcha